দৈনিক সাতক্ষীরার সংবাদ
ঢাকাশুক্রবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে নতুন প্রজন্ম; বললেন প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক সাতক্ষীরার সংবাদ
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২২ ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর লেখা ১১টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ হাসিনা রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। ১১টি বইয়ের মধ্যে ‘কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর’ বইটি শেখ হাসিনা নিজেই সম্পাদনা করেছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি বইগুলো প্রকাশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি-বইগুলো পড়লে শিশু-কিশোর এবং যুবক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যেমন জানতে পারবেন, তেমনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে জানতে পারবেন। এ ধরনের আয়োজনে মানুষ সত্য সম্পর্কে জানতে পারবে এবং নিজেদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে পারবে। তিনি বলেন, দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি যে একটা দায়িত্ব আছে-সেটা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে যতই জানতে পারবে ততই তারা তা উপলব্ধি করতে পারবে।

কেননা, একটা মানুষ তার জীবনের সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন বাংলাদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতাকে নিয়ে এত গান-কবিতা রচনা হয়েছে যে, আমি জানি না পৃথিবীতে এমন আর কোনো নেতা আছেন কিনা যাকে নিয়ে এত রচনা হয়েছে। রচনাগুলো লোকসাহিত্য থেকে শুরু করে বিজ্ঞানবিষয়ক সর্বক্ষেত্রে বিস্তৃত।

বঙ্গবন্ধুর অবদানকে মানুষ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু গ্রহণ করলেই হবে না। আমি চাই নতুন প্রজন্ম সেই আদর্শে আদর্শবান হয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আজকের নতুন প্রজন্ম ২০৪১ সালের সৈনিক হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে ধাপে ধাপে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হব। আর সেটা করা খুব কঠিন কাজ নয়। ইনশাআল্লাহ আমরা তা করতে পারব।

অনুষ্ঠান আয়োজক-প্রকাশকদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এ ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে মানুষ সঠিক ইতিহাস জানার মাধ্যমে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে এবং আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি-২০০৮ সালে বিজয়ী হয়ে আমরা সরকার গঠনের পর ২০২২ সালে এসে বাংলাদেশে একটা বিরাট পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, একদিকে যেমন দারিদ্র্যের হার আমরা কমাতে পেরেছি, তেমনি স্বাক্ষরতার হার বাড়াতে পেরেছি। পাশাপাশি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা দিতে পেরেছি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর যেমন গুরুত্ব দিয়েছিলাম সেখানেও আমরা যথেষ্ট সফল হয়েছি। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং জানার মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। বাংলাদেশ এখন আর অন্ধকারে পড়ে থাকছে না। বরং দেশের মেধাবী ছেলেমেয়েরাও বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে পারছে, তাদের জ্ঞান আরও উদ্ভাসিত হচ্ছে। প্রযুক্তির সেটাই সব থেকে বড় অবদান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন-জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও অনুবাদ উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফখরুল আলম। সাহিত্য অনুষ্ঠান উপ-কমিটির আহ্বায়ক এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পূর্বে ধারণ করা বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুজিববর্ষের থিম সং ‘তুমি বাংলা ধ্রুবতারা, হৃদয়ের বাতিঘর’ পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১৩ মেধাবী শিক্ষার্থী ‘বঙ্গবন্ধু স্কলারস’ বৃত্তি এবং ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কুইজ’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বিজয়ী ১০০ জনের মধ্যে ১০ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মুজিববর্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু স্কলারস’ বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্নাতক পর্যায়ের সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, ভৌত বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, শিক্ষা ও উন্নয়ন, চিকিৎসা, চারু-কারু, কৃষি বিজ্ঞান এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিক্ষেত্রের প্রতিটি অধিক্ষেত্র থেকে একজন করে মেধাবী শিক্ষার্থীকে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে ‘বঙ্গবন্ধু স্কলারস’ হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। বৃত্তি হিসাবে প্রত্যেককে এককালীন তিন লাখ টাকার চেক, সনদ ও একটি সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।